
দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য থাকার পর অবশেষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সাত শতাধিক পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে দ্বীপটির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে জাহাজটিকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এতে স্বস্তি ফিরেছে দ্বীপের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, জাহাজমালিক ও পর্যটকদের মধ্যে।
এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর ছাড়পত্র, জাহাজের কাগজপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল জাহাজ মালিকদের।
শেষ পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে একটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবুল মান্নান বলেন, একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় শর্ত ও কাগজপত্র যাচাই করে অন্য জাহাজগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা দেওয়া হবে।
সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, রাতে যাচাই-বাছাই শেষে এমভি বার আউলিয়া জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সাত শতাধিক পর্যটক নিয়ে প্রথম জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে অন্য জাহাজগুলোও চলাচল শুরু করবে।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার দিনভর জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। রাত ৯টার দিকে একটি জাহাজের অনুমতি পাওয়ায় আপাতত পর্যটক পরিবহনের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।
ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে।
যারা টিকিট কিনেছেন, তারা জাহাজ চলাচল শুরু হলে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
জাহাজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়ার যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন। এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। তিনটি জাহাজের মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন।
তবে আপাতত এমভি বার আউলিয়াকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জাহাজগুলোর দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর এমভি বার আউলিয়া বৃহস্পতিবার পর্যটক নিয়ে যাত্রা করবে।
এদিকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার ক্ষেত্রে কেবিনের সুবিধা রয়েছে। ট্যুরিজম বোর্ডের সার্ভারের মাধ্যমে টিকিট ইস্যুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে তাঁদের শতাধিক এজেন্টও টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ায় দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটক আসার প্রত্যাশায় আগেই হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো প্রস্তুত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তাঁদের অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে পচনশীল খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করা ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় ছিলেন।
দ্বীপের ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পর্যটক আসা শুরু হলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে। দীর্ঘদিন পর্যটকশূন্য থাকার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াকে তাঁরা দ্বীপের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
আপনার মতামত লিখুন :