কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আজ শুক্রবার বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে লাশগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী।
সেনা সদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় সশস্ত্র অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কয়েকজন মারা গেছেন। তবে নিহত ব্যক্তিরা ডাকাত, নাকি বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী, তা নিশ্চিত নন তিনি। তাদের আটকে রাখা আস্তানার পাশেই লাশগুলো পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান তিনজনের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে একই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ওই সময় মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। অভিযানে বন্দিশালা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে।
পরে শুক্রবার সকালে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া তিন ব্যক্তির কাছে মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য আমরা পেয়েছি। এখনো লাশ উদ্ধার করতে পারিনি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে।